Showing posts with label ক্যারিয়ার. Show all posts
Showing posts with label ক্যারিয়ার. Show all posts

একটি সুন্দর জীবন বৃত্তান্ত তৈরীর উপায়

আপনার জীবনবৃত্তান্ত (CV) হচ্ছে একজন সম্ভাব্য চাকুরিদাতার কাছে একজন চাকুরিপ্রার্থী হিসাবে উপস্থাপন করার প্রাথমিক মাধ্যম। কিন্তু অনেক ক্ষেত্রেই দেখা যায় চাকুরিপ্রার্থীরা তাদের জীবনবৃত্তান্ত সুন্দর এবং সঠিকভাবে তৈরী করার ব্যপারে গুরুত্ব প্রদান করে না। ফলশ্রুতিতে অনেক যোগ্য প্রার্থীই Interview তে ডাক পায় না এবং যোগ্যতা প্রমানের সুযোগ থেকে বঞ্চিত হয়।

আপনার জীবনবৃত্তান্ত (CV) তৈরীর আগে যে সকল বাস্তবতার দিকে নজর রাখবেন
¤   একজন চাকুরিদাতা গড়ে একটি জীবনবৃত্তান্ত-এর উপর ৩০ সেকেন্ডের বেশী সময় দেয় না। সুতরাং এটি হতে হবে সংক্ষিপ্ত। তথ্যগুলোর উপস্থাপন হতে হবে সুস্পষ্ট। অপ্রয়োজনীয় বা অপেক্ষাকৃত কম গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পরিহার করতে হবে।
¤   একজন অনভিজ্ঞ/ সদ্য পাস করা চাকুরিপ্রার্থীর জীবনবৃত্তান্ত এক থেকে দুই পাতার বেশী হওয়া কোনভাবেই উচিৎ নয়।
¤   আপনার জীবনবৃত্তান্ত হচ্ছে আপনার নিজেকে বিপণন করার মাধ্যম। সুতরাং এটি হতে হবে আকর্ষণীয়। তবে চটকদার কোন কিছু যেমন রঙিন কাগজ বা রঙিন কালি ব্যবহার করবেন না। কোন কিছু Highlight করতে হলে সেটিকে Bold , italic বা underline করতে পারেন।
¤   মনে রাখবেন, আপনার জীবনবৃত্তান্তের মধ্যে যদি কোন বানান ভুল বা ভাষাগত/ Grammatical ভুল থাকে তবে সম্ভাব্য চাকুরিদাতার আপনার সম্বন্ধে নেতিবাচক ধারণা হবে। এটি প্রকাশ পাবে যে আপনি কোন কাজই নির্ভুল ভাবে করতে সক্ষম নন। সুতরাং একটি CV তৈরীর পর সেটি নিজে ভাল করে পড়ুন এবং শুদ্ধ ইংরেজী জানেন এমন ব্যক্তিকে দেখিয়ে নিন।
¤   যখন আপনি কোন নির্দিষ্ট চাকুরি বিজ্ঞপ্তির-এর বিপরীতে আবেদন করার জন্য জীবনবৃত্তান্ত পাঠাবেন, তখন চেষ্টা করুন আপনার জীবনবৃত্তান্ত সেই চাকুরির চাহিদা অনুযায়ী তৈরী করতে হবে। এর জন্য প্রয়োজন চাকুরি বিজ্ঞপ্তি ভাল করে পড়া এবং প্রতিষ্ঠানটি সম্বন্ধে কিছু গবেষণা করা। উদাহরণ স্বরুপ আপনি যদি জানেন যে নিয়োগকারী প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশের যে কোন স্থানে নিয়োগ দিতে পারে, তাহলে আপনি আপনার জীবনবৃত্তান্তে উল্লেখ করতে পারেন আপনি বাংলাদেশের কোন কোন স্থানে পূর্বে অবস্থান করেছেন। অথবা কোন নিয়োগকারী প্রতিষ্ঠান এমন কোন লোক খুঁজছে যার একজন সংগঠকের ভূমিকা পালন করতে হবে, সেই ক্ষেত্রে আপনি যদি আপনার ছাত্রজীবনের কোন সাংগঠনকারীর ভূমিকা উল্লেখ করেন তবে আপনার জীবনবৃত্তান্ত নিয়োগকারীর কাছে আলাদা মূল্য পাবে।
¤   এটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ যে আপনি আপনার জীবনবৃত্তান্ত তে সঠিক তথ্য দিবেন। এমন কোন তথ্য দিবেন না যা আপনার সাক্ষাৎকারে ভুল প্রমানিত হতে পারে।

একটি জীবনবৃত্তান্তে (CV) যে তথ্যগুলো আপনি সুবিন্যস্ত ভাবে উপস্থাপন করবেন সেগুলো হচ্ছে
¤   শিরোনাম (Title)
¤   সার সংক্ষেপ (Career Summary) : অভিজ্ঞতা সম্পন্নদের জন্য বেশী প্রয়োজন।
¤   ক্যারিয়ার উদ্দেশ্য  (Career objective): সদ্য পাশ করা চাকুরি প্রার্থীদের জন্য বেশী প্রয়োজন।
¤   চাকুরির অভিজ্ঞতা (Experience)
¤   শিক্ষাগত যোগ্যতা (Education)
¤   অতিরিক্ত তথ্য (Additional Information)
¤   ব্যক্তিগত তথ্য (Personal Information)
¤   রেফারেন্স (Reference)    

শিরোনাম (Title)
জীবনবৃত্তান্তের শুরুতেই থাকবে আপনার পুরো নাম। এটা বোল্ড (bold) হবে এবং একটু বড় ফন্টে লিখতে হবে (ডাক নাম পরিহার করুন)। তার পর থাকবে আপনার ঠিকানা (বর্তমান ঠিকানা যেখানে আপনাকে চিঠি দিলে আপনি পাবেন), ফোন নম্বর ও ই-মেইল অ্যাড্রেস। এই অংশটুকু পৃষ্ঠার উপরে মধ্যখানে থাকবে, যাতে তা প্রথমেই চোখে পরে।

Career  সার সংক্ষেপ (Summary)

যে সকল ব্যক্তিদের ৪-৫ বছরের বেশী চাকরীর অভিজ্ঞতা আছে তাদের জন্য এটি বেশী প্রযোজ্য। এই অংশে আপনি সর্বোচ্চ ৬-৭ লাইনে উল্লেখ করুন আপনার পূর্ব চাকরীর অভিজ্ঞতার কর্মক্ষেত্রগুলো। আপনার পূর্ব অভিজ্ঞতার সাফল্যগুলো (Achievement) সংক্ষেপে তুলে ধরুন (যদি থাকে)।

Career Objective    

এটি বেশী প্রযোজ্য সদ্য পাশ করা চাকুরি প্রার্থী ব অল্প অভিজ্ঞ (১-২ বছর) চাকুরি প্রার্থীদের জন্য। এই অংশে আপনি আপনার চাকুরিক্ষেত্রে বর্তমান লক্ষ্য (Immediate goal) উল্লেখ করুন এবং আপনার যোগ্যতা কিভাবে বিজ্ঞপ্তিত ( Advetised) চাকুরি বা যে প্রতিষ্ঠানে পাঠাচ্ছেন, তার প্রয়োজন মেটাতে পারে তার প্রেক্ষিতে উপস্থাপন করুন।চাকুরির জন্য উপযুক্ত ইতিবাচক বৈশিষ্ট্যগুলো সংক্ষিপ্তভাবে উল্লেখ করুন। চাকুরি বিজ্ঞপ্তি বা কোম্পানির প্রয়োজনের সাথে খাপ খাইয়ে Career Objective লেখা জরুরী। আপনি কোম্পানিকে কি দিতে পারবেন তার ওপর গুরুত্বারোপ করুন, কোম্পানির কাছ থেকে আপনি কি আশা করছেন তার ওপর নয়।  

Experience (কর্ম অভিজ্ঞতা)

অভিজ্ঞ পেশাজীবিদের জন্য এই অংশটি শিক্ষাগত যোগ্যতার আগেই আসা উচিৎ। সদ্য পাশ করা বা অল্প অভিজ্ঞতার ক্ষেত্রে আগে শিক্ষাগত যোগ্যতা (Education) এবং তার পরে experience আসা উচিৎ।

যে সকল তথ্য আপনার প্রতিটি পূর্ব অভিজ্ঞতার ক্ষেত্রে উল্লেখ করবেন সেগুলো হচ্ছে,
Organization name (প্রতিষ্ঠানের নাম)
Designation (পদবী)
Time period-     From & To     (সময়কাল)
Job responsibility (দায়িত্ব)
Special achievement     (উল্লেখযোগ্য সাফল্য)

আপনি যদি একই প্রতিষ্ঠানে বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন পদে কাজ করে থাকেন, তাহলে আলাদা আলাদা ভাবে তা উল্লেখ করুন।  
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে আপনি প্রথমেই উল্লেখ করবেন আপনার সাম্প্রতিক অভিজ্ঞতা most recent experience), তার পরে এক এক করে Chronological Order -এ একটির পর একটি অভিজ্ঞতা উল্লেখ করবেন যা শেষ হবে আপনার সর্বপ্রথম অভিজ্ঞতা দিয়ে।
আপনার খুব কম গুরুত্বপূর্ণ বা কম সময়ের অভিজ্ঞতা উল্লেখ না করাই ভাল। তবে লক্ষ্য রাখবেন যে আপনার List of experience এর মধ্যে যাতে খুব বেশী Time gap না থাকে।

Education & Training (শিক্ষাগত যোগ্যতা ও প্রশিক্ষণ)
আগেই বলা হয়েছে যে এই অংশটি সদ্য পাশ করা বা অল্প অভিজ্ঞদের জন্য Experience    অংশের আগেই আসা উচিৎ। Education অংশে আপনি আপনার ডিগ্রিগুলোর নাম উল্লেখ করবেন এবং নিম্নে বর্ণিত তথ্য প্রদান করবেন।
ডিগ্রির নাম (যেমন: SSC, HSC, BCOM)
কোর্স সময়কাল (কবে থেকে কবে)
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং বোর্ডের নাম।
পরীক্ষার বছর এবং প্রয়োজনে ফলাফল প্রকাশের সময়।
ফলাফল/Result এবং যদি উল্লেখযোগ্য সাফল্য (যেমন: মেধাতালিকায় স্থান) থাকে তবে তার উল্লেখ করতে হবে।
Experience-এর মতো এক্ষেত্রেও আপনি আপনার সবচেয়ে সাম্প্রতিক ডিগ্রির উল্লেখ আগে করবেন এবং তার পর পর্যায়ক্রমিক ভাবে বাকিগুলো উল্লেখ করবেন।
লক্ষ্য রাখবেন আপনার কোন ডিগ্রির চূড়ান্ত ফলাফল এখনও প্রকাশ না হয়ে থাকলে সেই ডিগ্রির উল্লেখ করার সময় ব্র্যাকেটে "Appeared" উল্লেখ করবেন। কোন কোর্সে অধ্যায়নরত থাকলে Ongoing উল্লেখ করুন। কোন ডিগ্রির ক্ষেত্রে আপনার Result যদি খুব খারাপ হয়ে থাকে তবে কোন Result-ই উল্লেখ করার দরকার নেই। মনে রাখবেন একটি ডিগ্রির ফলাফল উল্লেখ করা ও অন্যটি উল্লেখ না করা দৃষ্টিকটু।
আপনি যদি কোন বিশেষ প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণ করে থাকেন এবং যদি তা আপনার কাজের যোগ্যতার সহায়ক বলে মনে করেন তবে তা উল্লেখ করবেন। সেক্ষেত্রেও প্রশিক্ষণকারী প্রতিষ্ঠানের নাম, Topics, প্রতিষ্ঠানের সময় (Duration) তারিখ উল্লেখ করবেন।
প্রশিক্ষণের তালিকা আপনি Education অংশের নীচে দিতে পারেন।

অতিরিক্ত তথ্য / Additional Information
যে সকল তথ্য উপরে উল্লেখিত অংশগুলোর মধ্যে পড়ে না কিন্তু চাকরির সাথে সম্পর্কিত তা এ বিভাগে বর্ণনা করুন।  
¤   পেশাগত অর্জন / Professional Achievement    
¤   পদক/ সম্মাননা/ Award
¤   ভাষাগত দক্ষতা / Language Literacy    
¤   কম্পিউটারে দক্ষতা / Computer Skills.
¤   লাইসেন্স,সরকারি পরিচয়পত্র, প্রকাশিত লেখা ও স্বত্বাধিকার
¤   স্বেচ্ছাসেবী কর্মকান্ড ইত্যাদি

ব্যক্তিগত তথ্য / Personal Information
এই অংশে পিতামাতা, বর্তমান/স্থায়ী ঠিকানা, ধর্ম, যে সকল দেশ আপনি ভ্রমণ করেছেন, শখ ইত্যাদি এখানে উল্লেখ করা যেতে পারে।

রেফারেন্স (Reference)    

খেয়াল রাখবেন Reference অংশে আপনি আপনার নিকট আত্মীয়দের নাম উল্লেখ করবেন না। আপনাকে আপনার ছাত্র জীবনে বা কর্মজীবনে কাছ থেকে দেখেছে এমন ব্যক্তিকেই আপনি Reference হিসাবে উল্লেখ করবেন। অবশ্যই যাদেরকে Reference দিবেন তাদের ফোন নাম্বার, ঠিকানা এবং ই-মেইল (যদি থাকে) উল্লেখ করবেন। সাধারণত Reference হিসাবে সর্বোচ্চ ২-৩ জনের নাম উল্লেখ করাই শ্রেয়। তবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ যে ব্যাপারের দিকে খেয়াল রাখতে হবে তা হচ্ছে আপনি যাদেরকে Reference হিসাবে উল্লেখ করেছেন সে সকল ব্যক্তিকে আপনার আগে থেকে জানাতে হবে যে আপনি তাদের Reference হিসাবে আপনার জীবনবৃত্তান্ত (CV)-তে উল্লেখ করেছেন।

একটি নমুনা আবেদনপত্র

বরাবর
বিজ্ঞাপনদাতা
জিপিও বক্স নং ৭৮৬,
ঢাকা

বিষয়: প্রশাসনিক কর্মকর্তা পদে নিয়োগের জন্য আবেদন।

জনাব              
সবিনয় নিবেদন এই যে, গত ১৮ ডিসেম্বর ২০১২ তারিখে প্রকাশিত দৈনিক ইত্তেফক পত্রিকার মাধ্যমে জানতে পারলাম যে আপনার অধীনে কিছু সংখ্যক "প্রশাসনিক কর্মকর্তা" নিয়োগ দেয়া হবে। আমি উক্ত পদের জন্য একজন আগ্রহী প্রার্থী।

আমি ২০১২ সালে দারুল ইহসান বিশ্ববিদ্যালয় হতে আরবী বিভাগে স্নাতক ডিগ্রী পাশ করেছি। কম্পিউটারে বিশেষ করে এমএস অফিস অপারেশনে আমার দক্ষতা আছে। এছাড়া আমার সম্পর্কে যাবতীয় তথ্যাবলী সংযোজিত জীবন বৃত্তান্তে প্রদান করা হলো।

অতএব, উপরোক্ত যোগ্যতার ভিত্তিতে আমাকে উল্লেখিত পদের জন্য একজন যোগ্য প্রার্থী হিসেবে বিবেচনা করে প্রার্থীতা প্রমানের সুযোগ দানের জন্য অনুরোধ জানাচ্ছি।

জরুরী প্রয়োজনে ০১৭৪১৪৯৭৩৩৬ অথবা moksud.sylhet@gmail.comএ যোগাযোগ করার জন্য অনুরোধ করছি।


বিনীত নিবেদক

আবেদনকারীর স্বাক্ষর ও তারিখ

সংযুক্তির বিবরণ:
১. জীবন বৃত্তান্ত
২. সকল সনদপত্রের সত্যায়িত কপি
৩. ২ কপি পাসপোর্ট সাইজের সত্যায়িত ছবি



 ________________________________________________________________________--

আবেদন পত্র তৈরীর কৌশল সমূহ
যখন আপনি কোন নির্দিষ্ট চাকুরির বিজ্ঞাপন এর পত্রিকা বা ওয়েবসাইট এ প্রকাশিত পরিপ্রেক্ষিতে আবেদন করেন অথবা সাধারণভাবে কোন প্রতিষ্ঠানে কোন উপযুক্ত পদের (Any suitable position) জন্য আবেদন করেন তখন একটি আবেদনপত্র প্রয়োজন হয়। প্রথম ক্ষেত্রে যদি নিয়োগকর্তা নিদিষ্ট করে শুধু জীবনবৃত্তান্ত পাঠাতে উল্লেখ করেন তখন আবেদনপত্র পাঠানোর প্রয়োজন নাই।

একজন নিয়োগকর্তার কাছে একটি আবেদনপত্র এর গুরুত্ব কী ? গুরুত্ব হচ্ছে, একজন নিয়োগকর্তা খুব অল্প সময়েই আবেদনপত্র দেখে ধারণা পেতে পারেন যে আবেদনকারীর যোগ্যতা তার নিয়োগকর্তার প্রতিষ্ঠানের জন্য প্রাসঙ্গিক (Relevant) কি না এবং এই ব্যক্তিকে আদৌ Interview এর জন্য আমন্ত্রণ জানানো যায় কিনা। এই পরিপ্রেক্ষিতে একটি আবেদনপত্র হচ্ছে একজন নিয়োগকর্তাকে Convince বা প্রভাবিত করার একটি প্রাথমিক মাধ্যম যেখানে আপনি আপনার বিভিন্ন যোগ্যতা তুলে ধরবেন যা এই নিদির্ষ্ট পদ বা এই নির্দিষ্ট প্রতিষ্ঠানের জন্য প্রয়োজনীয় ও প্রাসঙ্গিক।
আপনার আবেদনপত্র কোনভাবেই এক পাতার বেশী হওয়া উচিত নয়। সাদা কাগজে (A4 Size) কম্পিউটার কম্পোজ করে আবেদনপত্র লিখবেন। অবশ্যই যে কোন একটি ফন্ট এ (এরিয়াল অথবা টাইমস নিউ রোমান) লিখবেন। কোনভাবেই রঙ্গিন ফন্ট ব্যবহার করবেন না। নিয়োগদাতা যদি স্ব হস্তে আবেদনপত্র লেখার কথা উল্লেখ করেন, তাহলে তা স্ব হস্তেই লিখতে হবে।    
একেবারে ওপরে ডান পাশে আপনি আপনার ঠিকানা (যে ঠিকানায় আপনার চিঠি পাঠালে আপনি পারেন) লিখবেন। খামে আপনার ই মেইল এ্যাড্রেসও উল্লেখ করতে পারেন। (যদি থাকে) ঠিক তার নীচে কিছু জায়গা (১ লাইন স্পেস) খালি রেখে তারিখ লিখবেন।    
এরপর আপনি বামদিকে থেকে শুরু করবেন। প্রথমে যাকে উদ্দেশ্য করে আবেদনপত্র লিখবেন তার নাম (যদি জানেন বা আবেদনপত্র এ উল্লেখ থাকে), এরপর পদবী, প্রতিষ্ঠানের নাম ও ঠিকানা লিখবেন।

এরপর সাবজেক্ট লাইন এ আপনি বোল্ড ফন্ট এ উল্লেখ করতে পারেন কোন পদের জন্য আপনি আবেদন করছেন। যেমন: প্রশাসনিক কর্মকর্তা পদের জন্য আবেদনপত্র

এরপর আপনি মূল চিঠি শুরু করবেন। প্রথম অনুচ্ছেদে উল্লেখ করবেন চাকুরির বিজ্ঞাপনের সূত্র এবং কোন পদের জন্য আবেদন করছেন। যেমন- সবিনয় নিবেদন এই যে, গত ১৪ ডিসেম্বর, ২০০৮ তারিখে প্রকাশিত দৈনিক ইত্তেফাক পত্রিকার মাধ্যমে জানতে পারলাম যে আপনার অধীনে 'সহকারী পরিচালক' নিয়োগ দেয়া হবে। আমি উক্ত পদের জন্য একজন আগ্রহী প্রার্থী।

এর পরের অনুচ্ছেদ টিকে আপনি ব্যবহার করবেন বিজ্ঞপ্তিতে পদের বিপরীতে আপনার যোগ্যতা প্রমানের জন্য। আপনি কেন এই চাকরীর জন্য উপযুক্ত ব্যক্তি তার উপর গুরুত্ব দিতে হবে। এখানে আপনি তুলে ধরতে পারেন আপনার সেসব যোগ্যতা, যেগুলো বিজ্ঞাপনে উল্লেখিত পদের সাথে পরিপূরক। খেয়াল রাখবেন এই অংশটি পাঠ করে একজন নিয়োগকর্তা যাতে আপনাকে অন্য প্রার্থীদের থেকে অগ্রাধিকার দিতে প্রভাবিত হন।    

এর পরের অনুচ্ছেদ এ খুব সংক্ষিপ্ত ভাবে আপনি আপনার শিক্ষাগত যোগ্যতা (এক্ষেত্রে ডিগ্রীর নাম ও পাশ করার বছর) উল্লেখ করতে পারেন। আপনার কোন প্রশিক্ষণ থাকলে তা উল্লেখ করতে পারেন (শুধুমাত্র যদি তা যে ধরনের পদের জন্য আবেদন করছেন তার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ হয়)। আপনি যদি কোন প্রতিষ্ঠানে বর্তমানে কর্মরত থাকেন অথবা আপনার কয়েক বছরের অভিজ্ঞতা থাকে তা উল্লেখ করবেন। কিন্ত তা করবেন খুবই সংক্ষিপ্তভাবে (২-৩ লাইনের মধ্যে)। এক্ষেত্রে যদি অনন্য কোন অর্জন থেকে থাকে তবে তা উল্লেখ করতে পারেন।

সর্বশেষ অনুচ্ছেদটি হচ্ছে আপনার আবেদনপত্র এর উপসংহার। এখানে আপনি এই প্রতিষ্ঠানের জন্য (এবং যদি কোন নির্দিষ্ট পদের জন্য আবেদন করে থাকেন সেই পদের জন্য) কাজ করার ব্যাপারে আপনার আগ্রহ ব্যক্ত করবেন। যদি আপনি এ পদে নিয়োগ পান তবে আপনার যোগ্যতা এবং অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে আপনি সফলভাবে কর্ম সম্পাদন করতে পারবেন, সেই আত্মবিশ্বাস ব্যক্ত করুন। সবশেষে আপনি সাক্ষাৎকারের জন্য সময় কামনা করুন। এবং আপনাকে কোন ফোন নম্বর বা ই-মেইল এ্যাড্রেস এ যোগাযোগ করতে হবে তা উল্লেখ করুন।
আবেদনপত্র এর শেষাংশে সই করে তার নিচে সংযুক্তি হিসাবে আপনি যে সকল কাগজপত্র (যেমন: সিভি, সার্টিফিকেটস, ছবি) দিচ্ছেন তার তালিকা দেবেন।

যেসব ভুল-ত্রুটি পরিহার করা উচিত

¤   একই আবেদনপত্র বিভিন্ন নিয়োগকর্তার কাছে পাঠাবেন না।
¤   প্রতিটি আবেদনপত্র আপনাকে যে পদে বা প্রতিষ্ঠানে আবেদন করছেন তার চাহিদার বিপরীতে সাজাতে হবে।
¤   বানান গুলো সতর্কতার সাথে খেয়াল করুন।
¤   একাধিকবার আবেদনপত্র সংশোধন করুন।
¤   কোন কিছুর সংক্ষিপ্ত নাম ব্যবহার পরিহার করুন।
¤   আবেদনপত্রে আপনার সই দিতে ভুলবেন না। 

ক্যারিয়ার পরিকল্পনা ও দক্ষতা উন্নয়নের কৌশল

http://bangla.bdjobs.com/linksGha.asp
জীবন বাঁচানোর জন্য জীবিকা হিসাবে মানুষ কোন না কোন কাজ করে থাকে। এই কাজ করার মাধ্যমেই মানুষ কোন একটি বিষয়ে নিজেকে দক্ষ করে জীবিকার পথ হিসেবে তা বেছে নেয়। জীবিকার পথ হিসেবে মানুষ যে পন্থাকে বেছে নেয় তাই মূলত তার ক্যারিয়ার যেমন একজন ডাক্তার তার জীবিকা হিসেবে ডাক্তারি করে থাকেন। এখানে ডাক্তারি করাটাকে তিনি ক্যারিয়ার হিসেবে নিয়েছেন। আর এজন্য তিনি কোন হাসপাতালে কাজ করেন। সুতরাং আরেকটি বিষয় এখানে চলে আসে যে, কাজ করা আর ক্যারিয়ার এ দুটি বিষয় পরষ্পর সম্পর্ক যুক্ত হলেও একই বিষয় নয়। মূলত মানুষ তার ক্যারিয়ার ঠিক করতে বা লক্ষ্যে পৌঁছানোর জন্য বিভিন্ন ধরনের কাজ করে থাকে।

আরও একটি উদাহরণ দিয়ে বলা যায়- একজন ছাত্র কোন একটি সাধারন বিষয়ে গ্রাজুয়েশন বা স্নাতক করার পর হয়ত কোন প্রতিষ্ঠানে মার্কেটিং বিভাগে চাকরি নিলেন। কিন্ত এ সময়ে তার ক্যারিয়ার কে মার্কেটিং বলাটা ঠিক হবে না। কারণ এক বছর পর তিনি হয়তো অন্য একটি কোম্পানীতে সেলস বা বিক্রয় বিভাগে অথবা হিসাবরক্ষণ বিভাগে চাকরি নিলেন। এভাবে কয়েক বছর কাজ করার পর তিনি সিদ্ধান্ত নিতে পারেন যে তিনি কোন বিভাগে নিজেকে দক্ষ করবেন এবং পরবর্তীকালে সে বিষয়েই নিজের ক্যারিয়ার তৈরী করবেন বা সে বিষয়েই উচ্চপদ গ্রহণ করবেন। এ সময়ে তিনি তার ক্যারিয়ারের একটি প্রথম এবং প্রধান ধাপ অতিক্রম করবেন। সুতরাং আমরা বলতে পারি যে, ক্যারিয়ারের জন্য আমাদেরকে বিভিন্ন পর্যায়ে কাজ করতে হয়। এ অবস্থায় পরবর্তীকালে আমাদের সিদ্ধান্ত নিতে হবে, কোন পন্থা বা বিষয়কে ক্যারিয়ার হিসেবে বেছে নেয়া যেতে পারে।

এ সিদ্ধান্ত নেয়ার অন্যতম উপায় হচ্ছে ক্যারিয়ার পরিকল্পনা। একজন ব্যক্তি যত শুরু থেকে তার ক্যারিয়ার পরিকল্পনা করতে পারবেন তিনি তত তাড়াতাড়ি সেই লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারবেন। ক্যারিয়ার পরিকল্পনার জন্য যে বিষয়টি দরকার তা হলো, সাফল্য সম্পর্কে ধারণা থাকা।
সাফল্য অর্জনে কী গুণাবলী থাকা উচিত:

o সাধারণ জ্ঞান
o নিজ বিষয়ে পরিপূর্ণ জ্ঞান
o আত্মপ্রত্যয়
o বুদ্ধিমত্তা
o কাজ করার দক্ষতা
o নেতৃত্ব
o ভুল থেকে শিক্ষা নেয়ার দক্ষতা
o সৃজনশীলতা
o আত্মবিশ্বাস
o যথাযথ বাচনভঙ্গি
o অন্যের ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট থাকা
o ভাগ্য
o উপরোক্ত গুণাবলী যারা অর্জন করেছেন তারাই সাফল্য লাভ করে থাকেন।

এই গুণগুল জন্মসূত্রে না থাকলেও কাজের মাধ্যমে অর্জন সম্ভব।
নিজেকে জানুন, দেখুন তো আপনার মধ্যে এই গুণসমূহ আছে কিনা:
o সহমর্মিতা
o হাস্যরস
o সৌজন্যবোধ
o বিশ্বাস অর্জন- এর দক্ষতা

ক্যারিয়ার পরিকল্পনা- এর জন্য অবশ্যই আপনাকে লক্ষ্য ঠিক করতে হবে। এজন্য যা করবেন:
o আপনার লক্ষ্যগুলি ঠিক করবেন
o লক্ষ্যগুলি কাগজে লিখবেন
o লক্ষ্যগুলি সুনির্দিষ্ট হতে হবে
o লক্ষ্যগুলি গুরুত্ব অনুযায়ী শ্রেণীবদ্ধ করতে হবে
o প্রতিদিন লক্ষ্যগুলি স্মরণ করতে হবে
লক্ষ্য ঠিক করার জন্য S M A R T টেকনিক ব্যবহার করা যেতে পারে। এখানে তার ব্যাখ্যা দেয়া হল:
S = Specific বা সুনির্দিষ্ট
M = Measurable বা পরিমাপযোগ্য
A = Achievable বা অর্জনযোগ্য
R = Realistic বা বাস্তবধর্মী
T = Timeframe বা সময়কাঠামো

সাফল্যের জন্য আরও যা জানতে হবে:

SEE Factors
S = Smile বা হাস্যময়
E = Eye Contact বা মনযোগ
E = Enthusiasm বা উদ্যোগ

আরও ৮ টি নির্দেশনা হল:    

¤   ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি
¤   ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি বজায় রাখা
¤   সময়ানুবর্তী হওয়া
¤   প্রস্তত থাকা
¤   নিজের লক্ষ্য সম্পর্কে সচেতন থাকা
¤   নিয়ন্ত্রণে রাখা
¤   সঠিকভাবে কাজ করা
¤   পরিপূর্ণভাবে কাজ সম্পন্ন করা

ক্যারিয়ার পরিকল্পনা এবং সাফল্যের জন্য আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল সময় ব্যবস্থাপনা। আপনাকে অবশ্যই সময় ব্যবস্থাপনা জানতে হবে। এর জন্য যা করতে হবে:
¤   আপনার প্রতিদিনের কাজগুলো লিপিবদ্ধ করুন
¤   প্রতিটি কাজে এখন আপনি গড়ে কত সময় ব্যয় করছেন তা নিরূপণ/ ঠিক করুন
¤   প্রতিটি কাজে গড়ে কতটুকু সময় প্রয়োজন তা বের করুন
¤   প্রতিটি কাজে গড়ে আপনি কতটুকু সময় অতিরিক্ত ব্যয় করেন তা বের করুন
¤   এখন সিদ্ধান্ত নিন কীভাবে আপনি আপনার সময় ব্যয় করবেন?

সময় ব্যবস্থাপনা আপনার জীবনের মোড় ঘুড়িয়ে দিতে পারে, যদি আপনি সঠিকভাবে তা প্রয়োগ করতে পারেন। প্রতি রাতে ঘুমানোর আগে আগামীকাল আপনার করণীয় কাজগুলি একটি কাগজে লিপিবদ্ধ করুন এবং তারপাশে কোন সময়ে তা করবেন তা লিখুন। আপনার হাতের অতিরিক্ত সময় অন্য কোন প্রয়োজনীয় কাজে ব্যয় করুন।    


ক্যারিয়ার পরিকল্পনার জন্য আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে কাজের চাপের ব্যবস্থাপনা। আমাদের দেশে এ বিষয়টিকে খুব কম গুরুত্ব দেয়া হয়। আপনি যদি চাপ কমাতে না পারেন, তবে তা আপনার ক্যারিয়ারের জন্য বাধা হয়ে দাঁড়াবে। আমরা অনেক নেতিবাচক পরিবেশের মধ্যে বড় হচ্ছি, এর ফলে কাজের চাপ ব্যবস্থাপনা আমাদের জন্য খুবই প্রয়োজনীয়। চাপ কমানো ও ব্যবস্থাপনার জন্য আমাদের যা করতে হবে:  

¤   নিজের উপর বিশ্বাস রাখা
¤   নেতিবাচক লোকদের এড়িয়ে চলা
¤   সবকিছু সহজে গ্রহণ করা
¤   মাথা ঠান্ডা রাখা
¤   সব সময় ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি বজায় রাখা
¤   নেতিবাচক বিষয়কে ইতিবাচকভাবে দেখা

মেডিটেশন অনেক সময় আমাদের চাপ কমাতে পারে, তাই মেডিটেশন করা যেতে পারে। বাংলাদেশে এখন এর ব্যাপক চর্চা হচ্ছে।    

উপরোক্ত বিষয়গুলির প্রতি মনোযোগী হলে আপনি সহজেই আপনার ক্যারিয়ার পরিকল্পনা করতে পারবেন। কারণ ক্যারিয়ার পরিকল্পনা এর জন্য আপনাকেই সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে হবে। আপনি অন্য কারো কাছ থেকে উপদেশ নিলেও নিজের সিদ্ধান্ত নিজেই নেবেন। কখনো অন্য কারো সিদ্ধান্ত যেন-আপনার ওপর চাপিয়ে না দেয়া হয়।

একটি ভাল ক্যারিয়ার গড়ে তোলার জন্য অবশ্যই দক্ষতার উন্নয়ন প্রয়োজন। কিন্ত দক্ষতা বিষয়টি অনেক ব্যাপক এবং একটি দক্ষতা, একটি দক্ষতার উপর নির্ভরশীল। আপনি শুধু একটি বা দুইটি বিষয়ে দক্ষতা অর্জন করলে সাফল্য লাভ করবেন, এটা মনে করা ঠিক না। সাফল্য লাভ করার জন্য যত বেশী দক্ষতা অর্জন করা যায় ততই একটি সুন্দর ও সফল ক্যারিয়ার এর দিকে আপনি এগিয়ে যেতে পারবেন।

স্বভাবতই প্রশ্ন জাগে, কোন কোন দক্ষতা অবশ্যই উন্নয়ন করা প্রয়োজন। যে দক্ষতাগুলি অবশ্যই উন্নয়ন করতে হবে তা হল:    
¤   আইটি
¤   কমিউনিকেশন
¤   ব্যবস্থাপনা

কমিউনিকেশন দক্ষতা: আপনি কিভাবে অন্য একজন ব্যক্তির কাছে সুন্দরভাবে আপনাকে উপস্থাপনা করতে পারছেন, তাই হল আপনার কমিউনিকেশন দক্ষতা। অর্থাৎ আপনার কথা-বার্তা, আচার-ব্যবহার এর মাধ্যমে আপনি আপনাকে কতটা আকর্ষণীয় করে তুলবেন অন্যদের কাছে।

¤   কমিউনিকেশন দক্ষতায় দক্ষ হতে হলে আপনাকে নিন্মোক্ত বিষয় গুলি চর্চা করতে হবে। যেমন- আপনার সাধারন জ্ঞান ও বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করবেন সব সময়।
¤   আপনার আত্মবিশ্বাস বাড়াতে হবে এবং বাচনভঙ্গির উন্নতি সাধন করার চেষ্টা করবেন। বাচনভঙ্গির উন্নয়নের জন্য উপস্থিত বক্তৃতা বা বিতর্ক প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহন করা উচিত নিয়মিতভাবে। এমনকি বন্ধু-বান্ধব মিলে এই কাজটি করতে পারেন নিজেদের দক্ষতা উন্নয়নের জন্য।
¤   পোষাক- পরিচ্ছদের ব্যপারে যত্নবান হউন এবং যা আপনাকে মানায় এবং অন্যরা পছন্দ করে তা পরিধান করুন
¤   আপনার বিভিন্ন মুদ্রাদোষ পরিহার করুন এবং হাতের নখ, চুলের খুশকি এবং অন্যান্য রোগ-জীবানু সম্পর্কে সতর্ক থাকুন।
¤   আয়নার সামনে অথবা বন্ধুদের সাথে কথা বলা চর্চা করুন এবং আঞ্চলিকতা যতটা পারুন পরিহার করুন।

ব্যবস্থাপনা দক্ষতা:

আপনার ক্যারিয়ার কে সুন্দর করতে ব্যবস্থাপনা দক্ষতায় আপনার দক্ষতা থাকা প্রয়োজন। ব্যবস্থাপনা দক্ষতায় আপনি দক্ষতা দেখাতে পারলে আপনি সহজে অন্যদের চোখে পড়বেন এবং আপনি ধীরে ধীরে ক্যারিয়ারের শীর্ষে পৌঁছাতে পারবেন। ব্যবস্থাপনা দক্ষতা বাড়ানোর জন্য আপনাকে যা করতে হবে, তা হল:    

¤   আপনাকে নেতৃত্বের গুনাবলী চর্চা করতে হবে। নেতা ভাবলেই নেতা হওয়া যায় না। তবে নিজের উপর বিশ্বাস রাখতে হবে এবং নেতৃত্ব দেবার মানসিকতা থাকতে হবে।
¤   যে কোন কাজ হাতে নিলে তা সুন্দর ভাবে শেষ করার মানসিকতা থাকতে হবে। মাঝ পথে কোন কাজ যদি কঠিন মনে করে ছেড়ে দেন, তাহলে বুঝবেন আপনার মধ্যে ব্যবস্থাপনা দক্ষতার অভাব রয়েছে। কোন কাজ কঠিন মনে হলে চিন্তা করে বের করবেন কিভাবে তা অন্য উপায়ে সম্পন্ন করা যায়। কারা আপনাকে এই বিষয়ে সাহায্য করতে পারে ইত্যাদি।
¤   ব্যবস্থাপনা দক্ষতার অন্যতম একটি প্রধান বিষয় হল সময় ব্যবস্থাপনা। এর পাশাপাশি মানুষের বিশ্বাস অর্জন করাও একটি ব্যবস্থাপনা দক্ষতা। আপনার সৌজন্যবোধ আপনাকে বিশ্বাস অর্জনে সহায়তা করবে।
¤   ভুল থেকে সঠিকটা শিক্ষা নেবার দক্ষতা থাকতে হবে। তার সাথে সাথে হাস্যরস বোধ আপনাকে একজন দক্ষ ব্যবস্থাপক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে সহায়তা করবে।


আইটি দক্ষতা:    

বর্তমান সময় আপনি যদি কম্পিউটার না জানেন, তাহলে আপনাকে শিক্ষিত বলা যাবে না। শুনতে খারাপ লাগলেও এটাই সত্যি। আবার তার মানে আপনি কম্পিউটারে উচ্চশিক্ষিত হবেন তা নয়। আইটি দক্ষতা বলতে বোঝায় কম্পিউটার ব্যবহার করে চিঠি বা কোন ডকুমেন্ট লিখতে, সুন্দরভাবে প্রিন্ট করা জানতে হবে। জানতে হবে কীভাবে কম্পিউটার ব্যবহার করে আপনি ডাটা ম্যানেজমেন্ট করতে পারেন। কম্পিউটার ব্যবহার করে কীভাবে একটি প্রেজেন্টেশন করতে পারেন। এছাড়া ইন্টারনেট ব্যবহারও ভালভাবে জানতে হবে। এর পাশাপাশি যদি কম্পিউটার এর হার্ডওয়্যার ও মেইনট্যানেন্স   জানা থাকে তবে আপনি আইটি দক্ষতার প্রধান ধাপগুলো পূর্ণ করবেন।

সর্বশেষ বলা যায়, ক্যারিয়ার পরিকল্পনার জন্য আপনি ওপরে উল্লেখিত দক্ষতাগুলির যতগুলি আয়ত্ব করতে পারবেন, আপনার সম্ভাবনা ততই উজ্জল হবে।    

ক্যারিয়ার প্লানিং এর এই ভুলগুলো পরিহার করুন:    

¤   আপনি যা ভাল পারেন তার সাথে আপনার পছন্দের পার্থক্য সৃষ্টি করা:
অনেকেই বলে আপনার গলা ভাল তাই বলে আপনি এই সিদ্ধান্ত নিলেন যে আপনি সারা জীবন আচার অনুষ্ঠানে গান গেয়ে   কাটিয়ে    দিবেন। এ সিদ্ধান্ত আপনার জন্য ভুল হতে পারে, যদি না আপনি এটা বিচার করেন যে পেশা হিসাবে গান গাওয়াটা উপভোগ করতে পারবেন কিনা। আপনি কোন ব্যপারে ভাল তার আগে গুরুত্বপূর্ণ হলো আপনি কি করতে পছন্দ করেন। আপনি যা করতে পছন্দ করেন তাতে আপনি যথেষ্ট দক্ষ না হলেও পরিশ্রম ও সাধনার বলে আপনি তা অর্জন করতে পারেন।

¤   শখের সাথে পেশার পার্থক্য না করা
আপনি হয়ত দৌড়ানো, আইন, বইপড়া, এবং ঝুড়ি বানানো পছন্দ করেন। আপনি হয়ত ভাবছেন-এসবগুলো ক্ষেক্রকে একটি পেশায় আনা যায় কিনা। উদ্বিগ্ন হওয়ার কিছু নাই। আপনার এরকম কিছু করতে হবে না। কোন একটি সাধারন পেশা আপনার সবগুলা শখ মেটাবে এরকম ভেবে বসাটা একটা বড় রকমের ভুল। মনে রাখবেন এর অর্থ এই নয় যে আপনি আপনার পেশাকে পছন্দ করছেন না। আপনি আসলে পেশার উপর আপনার শখকে গুরুত্ব দিচ্ছেন

¤   পেশার একটি দিকের সাথে অবস্থার সামগ্রিক পাথর্ক্য না করা
অনেক সময় কেউ কেউ কোন পেশা স্থির করার সময় এমন ভেবে বসেন যে তারা তেমন কিছু না করেই তা হয়ে যেতে পারবেন। যেমন-কেউ লিখতে পছন্দ করেন। লেখালেখির পেশার সুযোগগুলো না দেখেই ভেবে নিন যে একজন লেখক হয়ে যাবেন এটা ভুল। এমনও হতে পারে কেবল উপন্যাসিক, সাংবাদিক ও কপিরাইটারের মত লেখক হতে চাইছেন যখন এর স্থলে তিনি একজন মন্ত্রী, জনসংযোগ- সহকারী,সম্পাদক অথবা সরকারী লবিকারী হওয়ার চিন্তা করতে পারতেন।